এনআইডি সেবা বিটিআরসির কাছে হস্তান্তরের দাবি

১৩ জুন, ২০২১ ১২:৪০  
নাগরিকদের জাতীয় পরিচয় পত্র বা এনআইডি নিয়ে যখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে যুক্তি-তর্ক চলছে তখন এই সেবাটি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসির তত্ত্বাবধানে অন্তর্ভূক্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন। রবিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, বর্তমান সময়ে নাগরিকদের সকল কাজ করতে হয় মুঠোফোন নাম্বার দিয়ে। যে মুঠোফোনে গ্রাহকের সকল তথ্য সংরক্ষিত থাকে এবং নাগরিকদের মুঠোফোন গ্রহণ করার সময় বা সেবা নেয়ার সময় এনআইডি দিয়ে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে একজন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক সেবাটি গ্রহণ করতে পারে। অতএব এন আই ডি সেবাটি টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসির কাছে হস্তান্তর করা অত্যন্ত সময়োপযোগী দাবি বলে মনে করি। নিজেদের দাবির সপক্ষে যুক্তি দিয়ে মহিউদ্দিন বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে এনআই ডি নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্থানান্তরের সংবাদ এ নাগরিক সমাজ ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে এমনকি রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মধ্যে বিভিন্ন শঙ্কা জেগে উঠছে। একসময় এনআইডি শুধু ভোটার তালিকা প্রণয়নের জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল। সময়ের চাহিদা ও রাষ্ট্রের প্রয়োজনে এই ভোটার আইডি হয়ে উঠেছে একটি জাতীয় পরিচয় পত্রের। বর্তমান সময়ে ব্যাংক লেনদেন, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সেবা, পারিবারিক ও সামাজিক সকল কর্মকান্ড এনআইডি ও মোটু ফোন নাম্বার বাধ্যতামূলক ভাবে ব্যবহার করতে হয়। বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে দেশের প্রায় ১৭কোটি৫৫লাখ সক্রিয় সিম এনআইডি দ্বরা নিবন্ধিত। তাছাড়া দেশের সকল প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের তথ্য বিটিআরসি বা টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে রয়েছে।   প্রযুক্তির উৎকর্ষের সাথে সাথে এই তথ্যের ভিত্তিতে তৎক্ষণাৎ অপরাধী চক্র বা রাষ্ট্রের প্রয়োজনে কোন নির্দিষ্ট নাগরিককে অনুসন্ধানের জন্য বিটিআরসি এবং মোবাইল অপারেটররা সহযোগিতা করে থাকে। কাজেই নাগরিক তথ্য বিভিন্ন সংস্থার কাছে না রেখে একটি জায়গায় সংরক্ষিত থাকাই যুক্তিযুক্ত। মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশন সভাপতি আরো বলেন, এর মাধ্যমে প্রত্যেক নাগরিক তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে। সরকার নাগরিকদের তথ্য নিরাপত্তা দিতে সাংবিধানিকভাবে বদ্ধপরিকর। তাই নাগরিকদের তথ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে একসাথে একি সংস্থার নিকট তথ্য সংরক্ষিত রাখা জরুরী। এতে করে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যাবে। আমাদের দাবির বিষয়টি সরকার চাইলে আরো গভীরভাবে পর্যালোচনা করতে পারে। আমরাও এই বিষয়ে সহযোগিতা করতে পারি।